রোগীর কিডনি চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলল বিএমএ
নাটোরের বেসরকারি জনসেবা হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে রোগীর কিডনি চুরির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নেতারা।
আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএমএ নেতারা এ দাবি করেন। এম এ হান্নান রামেকের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এ ছাড়া তিনি বিএমএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএমএর রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) ছাড়া দেশের অন্য কোথাও রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। কিডনি বের করে নিলে অন্য কোথাও তা সংরক্ষণও করা যাবে না। তাই চিকিৎসক এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে রোগীর কিডনি বের করে নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
চিকিৎসক নেতা খলিলুর রহমান বলেন, ‘ইচ্ছে করলেই রোগীর কিডনি বের করে অন্য কারো শরীরে প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। এর জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধাসহ দক্ষ নার্স ও মেডিকেল সুযোগ-সুবিধা লাগে। এসবের কিছুই নাটোরের ওই বেসরকারি হাসপাতালটিতে নেই। আর কোনো একজন চিকিৎসকের পক্ষে রোগীর কিডনি অপসারণ সম্ভব নয়।’
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ওঠায় ওই রোগীর কিডনি আছে কি-না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায় দেওয়া হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যেত, ওই রোগীর কিডনি আছে কি না। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেত। কিন্তু পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে রোগীকে নিয়ে আসার জন্য তাঁর বাড়িতে গাড়ি পাঠানো হলেও তিনি আসেননি। রহস্যজনক কারণে তিনি পরীক্ষা এড়িয়ে আদালতে মামলা করেছেন।
খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তিনদিনের মধ্যে পুলিশকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ওই কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগী পরীক্ষা না করায় তদন্ত কমিটি কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এর দায় ওই রোগীর।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএমএর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তবিবুর রহমান শেখ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান, বিএমএর রাজশাহীর সভাপতি এস আর তরফদার, রামেকের অধ্যক্ষ আনোয়ার হাবিব, উপাধ্যক্ষ নওশাদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে সকাল ১১টার দিকে বিএমএ নেতারা রামেকের ফটকের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেন। এতে রামেকের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন থেকে তাঁরা চিকিৎসক এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।
ডান দিকের কিডনি ও মূত্রনালিতে পাথরের কারণে ২০১৫ সালের ১২ জুন নাটোর সদরের জনসেবা হাসপাতালে সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামের ফজলু বিশ্বাসের স্ত্রী আসমা বেগমের (৫০) অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক এম এ হান্নান। এর ছয় দিন পর তাঁকে ওই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। সম্প্রতি শরীরিক সমস্যার কারণে আসমা বেগম তাঁর পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন। এতে তাঁর ডান দিকের কিডনি দৃশ্যমান হয়নি। এ কারণে তাঁর স্বজনরা গত ৩ ফেব্রুয়ারি জনসেবা হাসপাতালে গিয়ে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক এম এ হান্নানকে গালিগালাজ করেন। আসমার স্বজনদের দাবি, ২০১৫ সালে কিডনির পাথর অপসারণের সময় তাঁর কিডনি বের করে নেওয়া হয়েছে।
নাটোর সদর থানায় অভিযোগের পর পুলিশ ওই দিন এম এ হান্নানকে আটক করে। পরে বিএমএ নেতাতাদের এবং সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর এম এ হান্নানসহ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে কিডনি চুরির মামলা করেন আসমা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

শ. ম সাজু, রাজশাহী