রিকশাভ্যানে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপেই কাটে তাঁর সময়। বাইরে কোথাও বের হলেও তাঁকে যেতে হয় বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে।
কিন্তু এবার এসবের যেন বালাই নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে যেন হারিয়ে গেলেন শৈশবের মধুর স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোতে। একটি সাধারণ রিকশাভ্যানে করে সরকারপ্রধান ঘুরে বেড়ালেন কুয়াশামাখা গ্রামের পথে।
বঙ্গবন্ধুকন্যার এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করা হলে ব্যাপক সাড়া মেলে। ছবিতে দেখা যায়, ভ্যানে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছোট বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, তাঁর বিদেশি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে।
সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের মানিকদহ আবাসিক এলাকায় সপ্তাহব্যাপী ১১তম জাতীয় রোভার মুট উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বাংলাদেশ স্কাউটের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার মোজাম্মেল হক খান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
পরে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি বিশেষ মোনাজাত করেন। রাতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর পৈতৃক নিবাসে অবস্থান করেন।
আজ সকালে গাছগাছালি ঘেরা গাঁয়ের পথে হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক নাতনিকে কোলে নিয়ে রিকশাভ্যানের সামনের দিকে বসেন। তাঁর পাশেই বসেছেন রাদওয়ান। পেছনে রাদওয়ানের স্ত্রী আর আরেক মেয়ে। এক যুবক সেই ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে তাঁর নিরাপত্তারক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেখা যাচ্ছে।
ছবিটির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বাসসকে বলেন, শেখ হাসিনা আজ সকাল ১১টার দিকে রিকশাভ্যানে চড়ে প্রায় ১৫ মিনিট গ্রামটি পরিদর্শন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিসৌধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত যান।
‘রিকশাভ্যানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, তাঁর পত্নী পেপি সিদ্দিক, তাঁদের মেয়ে লিলা তুলি সিদ্দিক ও ছেলে কায়াস মুজিব সিদ্দিক। কায়াস মুজিবকে কোলে নিয়ে শেখ হাসিনা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভ্যান থামিয়ে স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলেন ও তাদের কুশলাদির খোঁজখবর নেন।
মানুষকে আরো অবাক করে দিয়ে তিনি ফেরার পথে এই এক কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে আসেন।’
প্রেস সচিব আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে স্থানীয় মানুষ বিস্ময় ও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে প্রাণ খুলে তাঁর কাছে সুখ-দুঃখের কথা বলেন। এ সময় তাঁরা তাঁদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরলে শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিকভাবে এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইজারল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সম্মেলন শেষে তিনি ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে দাভোসে বরফের মধ্যে ছবি তোলেন। সেই ছবিটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা হলে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
গতকাল শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিকশাভ্যানে চড়েন।

অনলাইন ডেস্ক