নিমতলী ট্র্যাজেডি : বাস্তবায়িত হয়নি সরকারের প্রতিশ্রুতি
পাঁচ বছর আগের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকার নিমতলীতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান ১২৪ জন মানুষ। এই ঘটনায় নিঃস্ব হয়েছিল ৬২টি পরিবার। দিন, মাস, বছর পেরিয়ে আজও সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা। ২০১০ সালের ৩ জুন রাসায়নিক পদার্থ থেকে সৃষ্ট আগুনে পুরান ঢাকার নিমতলি ট্র্যাজেডিতে স্তম্ভিত হয়েছিল দেশবাসী। অথচ পাঁচ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সরকারি প্রতিশ্রুতি।
urgentPhoto
এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারপ্রতি ২০ লাখ টাকা সরকারি অনুদান দেওয়ার দাবির পাশাপাশি ৩ জুন দিনটিকে নিমতলী ট্র্যাজেডি দিবস ঘোষণার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী অবিলম্বে রাসায়নিক কারখানাগুলো সরিয়ে আবাসিক এলাকা নিরাপদ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
রাসায়নিক পদার্থ থেকে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে মৃত্যু দেখতে কতটা বীভৎস হতে পারে তার সাক্ষ্য বহন করছে নিমতলী ট্র্যাজেডি। একসঙ্গে ৬২ পরিবার তাদের স্বজনদের হারিয়েছে। পাঁচ বছর পরে এখনো সেই দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে প্রিয়জন হারানো মানুষগুলোকে। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের চোখেমুখে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।
স্বজনহারা মোহাম্মদ রিপন বলেন, ‘আজও ক্ষতিপূরণ পাইনি। আমাদের পুনর্বাসন করার কথা ছিল সরকারের। আমরা এ পর্যন্ত পুনর্বাসন পাইনি।’
স্বজনহারা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘মা, বড় ভাই, বোন, বোনের ছেলে সবাই মারা গেছে। কিছুই পাইলাম না। কী দিল আমাদের। কিছু দিতে পারল? কিছুই দিতে পারেনি আমাদের।’
এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনো একটিও মামলা হয়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের দায়সারা একটি সাধারণ ডায়েরির মধ্যেই থেমে রয়েছে তদন্তকাজ। এমনকি যে রাসায়নিক গুদামঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি, সেই গুদামের মালিকের নাম পর্যন্ত উল্লেখ নেই সেখানে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শেখ মো. নাসির উদ্দীন বলেন, ‘যার গোডাউন ছিল সে তো আগুন লাগায়নি। সেটা অ্যাক্সিডেন্টের (দুর্ঘটনা) বিষয় ছিল। অ্যাক্সিডেন্টের বিষয়ে তো তদন্ত করে কাউকে দোষী করা যায় না। এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দেখি না।’
পুরান ঢাকার প্রায় হাজারখানেক রাসায়নিক পদার্থের গুদাম বা কারখানার মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১২৭টির। এমন তথ্য দিয়ে এই বৈধ-অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো এক মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত টাস্কফোর্স। কিন্তু বাস্তবে তা না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। আগের মতোই এই জায়গায় রমরমা ব্যবসা চলছে।
পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, দ্রুত সরকার পদক্ষেপ না নিলে আরো ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে এই পুরান ঢাকায়।
জল ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম ইনামুল হক বলেন, ‘এখানে একটি পরিকল্পিতভাবে আবাসিক এলাকা তৈরি করা হয়নি। এখনকার কেমিক্যাল কারখানাগুলোকে সরিয়েও নেওয়া হয়নি। পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার যে ব্যবস্থাপনা সেটাও তো করা হয়নি। সেটা তো হওয়া উচিত। আমি বলব যে, এ ব্যাপারে সরকারের আর দেরি করা উচিত নয়।’

তামজিদ সুমন