আশিভাগ কৃষক জৈব সার নিয়ে সচেতন নয়
সাতক্ষীরার আশি ভাগ কৃষক জৈব সার ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নয়। অথচ অধিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা ও উৎপাদন শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। একই কারণে প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য, প্রাণ বৈচিত্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তা।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বারসিকের এক প্রতিবেদনে ওই তথ্য বলা হয়। গতকাল শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন বারসিকের গবেষকরা। ‘ফসল উৎপাদনে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের অবস্থান অনুসন্ধান প্রেক্ষাপট সাতক্ষীরা’ শীর্ষক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বারসিকের শেখ তানজির আহমেদ ও মো. আসাদুল ইসলাম।
গবেষকরা রাসায়নিক সারের ওপর সরকারের ভর্তুকি কমিয়ে জৈব সারের ওপর ভর্তুকি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
গবেষকরা জানান, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ বান্ধব পোকা মারা যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকৃতিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় বেড়ে যাচ্ছে। অপরদিকে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মিশ্রিত খাবার খেয়ে মানবদেহ নানা রোগের মুখে পড়ছে। তারা ফসলে জৈব সার ও বিকল্প পদ্ধতির কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরা জেলায় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জেলার প্রয়োজন মিটিয়েও ধান, মাছ, সবজি, গরুর দুধ দেশের ঘাটতি এলাকায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের বরাতে গবেষণায় আরো বলা হয় জৈব সার ও জৈব বালাই নাশক ব্যবহারের ওপর কৃষকদের আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা চলছে।
গবেষণায় আরো বলা হয়, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশবান্ধব পোকা মারা যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকৃতিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় বেড়ে যাচ্ছে। অপরদিকে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মিশ্রিত খাবার খেয়ে মানবদেহ নানা রোগের মুখে পড়ছে।
সাংবাদিক ইয়ারব হোসেনের সভাপতিত্বে ‘মিট দ্য প্রেস’-এ বক্তব্য দেন আবদুল বারী, মো. আনিসুর রহিম, অধ্যক্ষ আশেক ইলাহি, সুভাষ চৌধুরী, শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, আবদুল জলিল, মমতাজ আহমেদ বাপী, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা