পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে দেশভ্রমণে পর্যটক দম্পতি
মোটরসাইকেলে করে দেশ ভ্রমণে বের হওয়া সেই পর্যটক দম্পতি ৪৩টি জেলা ঘুরে এখন সাতক্ষীরায়। ৪৪তম জেলা হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার তাঁরা সাতক্ষীরায় পৌঁছান। কাল শুক্রবার সাতক্ষীরার সুন্দরবন ভ্রমণ শেষে তাঁরা খুলনা যাবেন শনিবার।
সবশেষে ১৯ জানুয়ারি আলমগীর-দিপালী দম্পতি ঢাকা ভ্রমণ করে ইতি টানবেন পারিবারিক ট্যুরের। গত ৩০ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকেই সূচনা হয় তাঁদের দেশভ্রমণ।
দুজনই জানান, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে, পরিবারের প্রতি যাতে মমত্ব, দায়িত্ব ও আত্মীয়তাবোধ অক্ষুণ্ণ থাকে সেই দৃষ্টান্ত ধরে রাখতেই তাঁরা দেশভ্রমণে বের হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আসেন
আলমগীর আহমেদ চৌধুরী ও তাঁর সহধর্মিণী চৌধুরানী দিপালী আহমেদ। এ সময় প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদসহ সাংবাদিকরা তাঁদের স্বাগত জানান।
পর্যটক দম্পতি জানান, পরিবারের সদস্যরা এখন নিজেদের মোবাইল ফোন আর ফেসবুকে আবদ্ধ করে রাখছে। তারা পারিবারিক আত্মিক বন্ধনকে লণ্ডভণ্ড করে কেবল নিজেকে নিয়ে ভাবছে । এমনকি তারা হতাশার পাকে পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। নিজের জীবনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে নিজেই ধ্বংস করে দিচ্ছে। লেখাপড়া ফেলে অসামাজিক কাজে এমনকি অপরাধের খাতায়ও নাম লেখাচ্ছে। পরিবারের প্রতি করণীয়, মায়ের প্রতি দায়িত্ব, বাবা ও ভাইবোনের প্রতি কর্তব্য এসব কিছু এড়িয়ে একেকজন বিপথগামী যুবক নিজের জীবনকে না গড়ে ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে ফেলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গোটা সমাজ।
আলমগীর-দিপালী দম্পতি জানান, তাঁরা এই বন্ধনকে আমৃত্যু ধরে রাখতে চান। পারিবারিক সুখ-শান্তির স্বরূপ দেখতে চান। এই কারণে তাঁরা দেশ ঘুরতে বেরিয়েছেন। দেশভ্রমণ নিজের দেশকে কাছ থেকে দেখতে শেখায়। দেশপ্রেমকে অনুভবে আনতে সহায়তা করে। নিজ দেশের পর্যটন খাতকে উচ্চকিত করে। দেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আরো বেশি মাত্রায় জাগ্রত করে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পর্যটক দম্পতি জানান, তাঁদের ১৪ বছরের বৈবাহিক জীবনে ১০ বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে। নাম শাহেদ আহমেদ চৌধুরী। সে এবার ক্লাস সিক্সে উঠবে। শিশুটি তার দাদা-দাদির সান্নিধ্যে থেকে তাঁদের দেশভ্রমণে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা