ছেলে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে কাঁদলেন বাবা
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর সীমান্তে কলেজছাত্র গৌতম হত্যার প্রতিবাদে ও ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা শহরের নিউমার্কেট চত্বরে সাতক্ষীরার প্রধান সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়।
এ সময় পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দিয়ে তারা গৌতম সরকার হত্যাকারীদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ আছে বলে অভিযোগ করে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর কবিরকে প্রত্যাহার করার দাবি জানান। একই সঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা, উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম, এসআই আসাদুজ্জামানকে এ হত্যা মামলা নিয়ে অর্থ-বাণিজ্য থেকে সরে থাকার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে ছেলে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কলেজছাত্র গৌতম সরকারের শোকার্ত বাবা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য গণেশ সরকার। ‘গৌতম আপনাদেরই সন্তান। হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আপনারা কেউ মাঠ ছাড়বেন না’ বলে তিনি উপস্থিত সবাইকে অনুরোধ করেন।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ঘোনা ইউপির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান, জাতীয় পার্টির নেতা নুরুল ইসলাম, এস এম শওকত হোসেন, মো. শাহাদাত হোসেন, অ্যাডভোকেট ওসমান গনি, অ্যাডভোকেট শাহনাজ পারভীন মিলি, অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু, বিশ্বনাথ ঘোষ, বিশ্বজিৎ সাধু, স্বপন কুমার শীল, গোষ্ঠবিহারী মণ্ডল, মুক্তিযোদ্ধা হাসান ইমাম, মাধব দত্ত, অসীম চক্রবর্তী, মো. আবু সাঈদ, ইদ্রিস আলী, সুভাষ সরকার, রওশন আরা, আলীনূর খান বাবুল, অ্যাডভোকেট অরুণ ব্যানার্জি, মো. রাহিলউদ্দিন, সাবিহা হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল ইসলাম, আবদুল কাদের, তাপস আচার্য প্রমুখ।

বক্তারা গণেশ সরকারের পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করে আটক সাজু হোসেনের মা ফজিলা খাতুন ও কবিরুল ইসলাম মিঠুর স্ত্রী কনিকা রানী ওরফে নাসিমা খাতুনকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তাঁরা এলাকার রহমান ও মুক্তসহ অন্য খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ লোকজন বলেন, কয়েকজন আসামিকে গ্রামবাসী ধরে এনে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কিন্তু হত্যার মূল নায়ক মহাদেবনগরের ঘরজামাই জামশেদকে সাতক্ষীরা থানা থেকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
দুই আসামির দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবিন্দ নিয়েও প্রশ্ন তুলে বক্তারা বলেন, পুলিশের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তাদের কথা বলানো হয়েছে। কিছু জবানবন্দি চেপে রেখে আরো কয়েক আসামিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাঁরা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অথবা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানান।
এদিকে মানববন্ধন ও অবরোধ চলাকালে সাতক্ষীরায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গত ১৩ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের মহাদেবনগর গ্রামের গণেশ সরকারের ছেলে কলেজছাত্র গৌতম সরকারকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তাঁর বাড়ির পাশে হত্যা করে লাশ পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। চারদিন পর তাঁর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা