বঙ্গবন্ধু পরিবারের আর কেউ রাজনীতিতে আগ্রহী নয় : ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য। তিনিই আওয়ামী লীগকে সাফল্য ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছেন।
এই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু পরিবারের আর কেউ আমাদের দলের কমিটিতে আসতে আগ্রহী নয় বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘শেখ রেহানা, রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সজীব ওয়াজেদ জয় কেউই কমিটিতে আসতে আগ্রহী নয়। শেখ পরিবারের অন্য কেউ রাজনীতিতে আসবে বলেও এখনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।’
আজ রোবাবর দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। গতকাল শনিবার দলের কাউন্সিল অধিবেশনে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলের কাউন্সিল, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সরকার এবং দলের দায়িত্ব একসঙ্গে পালনে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমার সুবিধা হচ্ছে, আমি রাস্তা দেখতে গিয়ে আওয়ামী লীগ দেখি। আবার আওয়ামী লীগ দেখতে গিয়ে রাস্তা দেখি। আমি আমাদের দলের সম্মেলনগুলোতে যোগ দিতে রাস্তা দিয়েই যাই। এ সময় সড়ক অবকাঠামো নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আলাদা বসেছি। আবার কোনো সড়ক ভিজিটে গেলে তখন স্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও দল নিয়ে একটু আলাপ করে আসি।’
দলের কাউন্সিল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দলের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারের মতো এত সুন্দর ও চমৎকার কাউন্সিল আর হয়নি। দলের কাউন্সিলররা ছিলেন উজ্জীবিত ও সুশৃঙ্খল। রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আমি রাস্তার সমস্যাগুলো দেখেছি। এই অ্যাডভানটেজ আমার আছে। দুটো কাজ একসঙ্গে করি, কারণ আমার কাজগুলো সিমিলার।’
সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ একেবারে নির্মূল হয়েছে তা ভাবার সুযোগ নেই- উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা চুপচাপ আছে, সে জন্য তারা শেষ হয়ে গেছে এমন ভাবাবার কারণ নেই। তারা হয়তো দুর্বল হয়েছে, তবে সক্রিয় আছে। তলে তলে কোনো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে না, তা বলার সুযোগ নেই। পৃথিবী অনেক দেশে হচ্ছে। এ মুহূর্তে কোনো অ্যাটাক হয়নি বলে ভবিষ্যতে হবে না, তা বলার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সেজন্য দলকে শক্তিশালী করতে হবে।
নতুন কমিটিকে বিএনপির স্বাগত জানানোর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি স্বাগত জানিয়েছে। এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। বিরোধী দলের অনেকেই আমাদের কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি সম্মেলনে এলে রাজনীতির জন্য এটি একটি সুখবর বয়ে আনত। আমরাও প্রত্যাশা করেছিলাম, তারা সম্মেলনে আসবে। তারা স্বাগত জানিয়েছে সেটা গণতন্ত্রের অংশ। পাশাপাশি তারা সমালোচনাও করেছে। গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই।’
কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মঙ্গলবার আমাদের প্রেসিডিয়াম মিটিং আছে। প্রেসিডিয়ামে আলোচনা করার পর সেদিন আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারব।’
মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল এটি রুটিন ওয়ার্ক। সময়ে সময়ে সাফল-রিসাফল হয়। নতুন বছরে হয়তো চমক আসতে পারে।
নতুন কমিটি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে কিছু নতুন মুখ এসেছে। দায়িত্বের পরিবর্তনও হয়েছে। সেটা দলকে আরো শক্তিশালী করার জন্য। পুরো কমিটি ঘোষণার পর মূল্যয়ন করা যাবে। অনেক মন্ত্রী আগের কমিটিতে ছিলেন এবার নেই, হয়তো ওয়ার্কিং কমিটিতে স্থান পেতে পারেন। যার নির্দেশনায় পার্টি চলে তাঁর কিছু স্ট্র্যাটিজি আছে, তাঁর অভিজ্ঞতা ৩৮ বছরের।
দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হওয়ার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ফিরে আসব সেটা ভাবিনি। ফিরে এলেও কর্মক্ষমতা পাব, তা অনেকেই ভাবেননি। গত দুই-তিন মাস সম্মেলনকে সামনে রেখে অনেক জেলা সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। নেত্রী আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই আস্থার জন্য আমার ঘাম-শ্রম আমি নিয়োগ করব। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচনী অঙ্গীকার। নির্বাচনের আগে জাতির সামনে নেত্রী যে ওয়াদা করেছিলেন তা পূরণ করতে হবে, সেজন্য আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালী ও স্মার্ট করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক