চিকিৎসকদের জন্য পিপিই ও গাড়ির ব্যবস্থা করল ফরিদপুর জেলা প্রশাসন
গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফরিদপুরে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে বিশেষত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাকাজের জন্য যেসব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সম্পৃক্ত রয়েছেন, তাঁদের যাতায়াতে অনেক সমস্যা হচ্ছিল। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানোমাত্রই তিনি সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য মাইক্রোবাস রিকুইজিশন করে দেন।
পাশাপাশি করোনাভাইরাসে সন্দেহভাজন রোগীকে অথবা সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে আসছেন, চিকিৎসক ও নার্সরা যাতে নির্ভয়ে তাঁদের সেবা দিতে পারেন, সে জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) সংস্থান করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া পিপিইগুলো জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়েছে এবং আরো বেশ কিছু পিপিই মজুদ রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এরই মধ্যে আরো ৫০০ সেট পিপিই কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে পিপিই নিয়ে কোনো সংকট নেই ফরিদপুরে। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছেন। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় আমরা কমিউনিটি সেন্টারের চিকিৎসকদের জন্যও পিপিইর ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের জন্য পিপিই ও গাড়ির ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা পেশার সঙ্গে বিশেষত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাকাজের জন্য যেসব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সম্পৃক্ত রয়েছেন, তাদের উপযুক্ত যানবাহন না থাকায় যাতায়াত করতে অনেক সমস্যা হচ্ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানোমাত্রই জেলা প্রশাসন থেকে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য মাইক্রোবাস রিকুইজিশন করে দেওয়া হয়েছে।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ মুহূর্তে পিপিই নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এর ভেতরে ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিজ উদ্যোগে আজ শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছে ৫০০টি পিপিই হস্তান্তর করেন। তিনি যথেষ্ট পরিমাণে বিষয়টি খেয়াল রাখছেন বলেও তাঁরা জানান। এ ছাড়া ফরিদপুর শিশু হাসপাতাল ও ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল নিজস্ব উদ্যোগে পিপিই তৈরি করে ব্যবহার করছে।
এসব বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ‘গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা পেশার সঙ্গে বিশেষত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাকাজের জন্য যেসব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সম্পৃক্ত রয়েছেন, তাঁদের উপযুক্ত যানবাহন না থাকায় যাতায়াত করতে অনেক সমস্যা হচ্ছিল। সিভিল সার্জন বিষয়টি আমাকে জানানোমাত্রই জেলা প্রশাসন থেকে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য মাইক্রোবাস রিকুইজিশন করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে অথবা সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে আসছেন, চিকিৎসক ও নার্সরা যাতে নির্ভয়ে তাঁদের সেবা করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় পিপিই দেওয়া হয়েছে।’
‘প্রতিদিন জেলার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট, মাইকিং, মাস্ক, সাবানসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হোম কোয়ারেন্টিন না মানায় অনেক বিদেশফেরতকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সহনশীল রাখার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে এই দুর্যোগের সময়ে অতি দরিদ্রদের তালিকা করে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে তারা খাদ্য সহায়তা দেয়। অনেক জায়গায় সেটা শুরু হয়ে গেছে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি জেলাবাসীকে অনুরোধ করে বলব, আপনারা সরকারের যে নির্দেশনা রয়েছে, সেটি মেনে ঘরে থাকুন। আমরা জেলা প্রশাসন আপনাদের পাশে রয়েছি সব সময়। একই সঙ্গে বলব কোনো গুজবে কেউ কান দেবেন না।’
অতুল সরকার বলেন, জেলার দুটি সরকারি হাসপাতাল ৮৫টি বেড প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও ৩৫টি আইসোলেশন বেড ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফরিদপুরের নয়টি উপজেলার খাদ্য সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিতে তিন হাজার ১০৬টি পরিবারের জন্য ১১৫ মেট্রিক টন খাদ্য ও ১৮ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মজুদ রয়েছে ১৯২ মেট্রিক টন খাদ্য ও দুই লাখ ৫৪ হাজার টাকা। প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আইসোলেশনের জন্য আরো কিছু জায়গা নির্ধারণ করে রাখা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত এক হাজার ৫৬৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়। এর ভেতরে ছুটি দেওয়া হয়েছে ৫৩৪ জনকে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর