অজানা আমির!
আজ তিনি খ্যাতির শীর্ষে ওঠা অভিনেতা। কিন্তু অভিনেতা হওয়ার আগে তাঁর জীবনও অন্য আর দশটা মানুষের মতোই ছিল গৎবাঁধা। তিনি বলিউড অভিনেতা আমির খান। যাঁর জীবনে রয়েছে বিচিত্র সব অজানা ঘটনা। সেই সব অজানা ঘটনার কিছু ছেঁড়া ছেঁড়া মুহূর্তের সমাহারে তৈরি এই প্রতিবেদন।
জানা যায়, স্কুলে পড়ার সময় আমির খুব ভালো লন টেনিস খেলতে পারতেন। শুধু স্কুল স্তরেই নয়, রাজ্যস্তরেই লং টেনিস খেলেছিলেন তিনি। আর ছোটবেলা থেকেই আমিরের প্রিয় টেনিস খোলোয়াড় ছিলেন রজার ফেদেরার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সিনেমা বানানোয় হাতেখড়ি ঘটে আমির খানের। ওই বয়সেই বন্ধু আদিত্য ভট্টাচার্যের সহযোগিতায় একটি নির্বাক সিনেমা বানিয়েছিলেন আমির। যার নাম ছিলো ‘প্যারানয়া’। তবে ছেলে আমিরের এই সিনেমাপ্রীতিকে নাকি কখনোই পছন্দ করতেন না আমিরের বাবা। তথাপি একরকম জেদ ধরে যৌবনের শুরুতেই এক থিয়েটার দলে যোগ দেন আমির। সেখানে টানা দুই বছর ব্যাকস্টেজে কাজও করেন তিনি। তারপর সিনেমায় সুযোগ মেলে।
আমিরের জীবনের প্রথম ছবির নাম ছিল ‘হোলি’। ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার ছাত্ররা মিলে ছবিটি পরিচালনা করে বলে শোনা যায়। ওই ছবিতে আমির খানের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল আমির হুসেন খান। ওই ছবিতে আমিরের সঙ্গে ছিলেন ‘লগন’ ছবির পরিচালক আশুতোষ গায়োড়িকর।
পরে বলিউডে প্রতিষ্ঠা পান আমির। শোনা যায়, আমির অভিনীত ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ছবির প্রচারে নাকি বাসে, অটোয় চেপে নিজের হাতে ছবির পোস্টার লাগিয়েছিলেন আমির। আর এই ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ছবিতে প্রথম আমির এবং জুহি চাওলার মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু সেই বন্ধুত্ব নাকি ভেঙে যায় পরবর্তীকালে ‘ইশক’ ছবির শুটিং চলাকালে। গুঞ্জন আছে, ‘ইশক’ ছবির শুটিংয়ে নাকি আমির জুহিকে নিয়ে এমন মজা করেন যে বেজায় চটে যান জুহি। তার পর থেকে আর এই দুজনকে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যায়নি।
বলিউডে আজ মিস্টার পারফেকশনিস্ট বলে আমিরের পরিচিতি। কিন্তু মিস্টার পারফেকশনিস্ট বলে পরিচিতি থাকলেও খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে নাকি তিনি মোটেই পারফেকশনিস্ট নন। আমিরের স্ত্রী কিরন রাও জানিয়েছেন, আমির নাকি খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে ভীষণ অনিয়মিত। শুধু তাই নয়, নিয়মিত স্নান করতেও নাকি খুব একটা পছন্দ করেন না মিস্টার পারফেকশনিস্ট।

মনোজ বসু, কলকাতা