সবজির ট্রাক আটকে ঘুষ!
সাতক্ষীরায় এক ব্যবসায়ীর সবজিভর্তি দুটি ট্রাক আটকে রেখে ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
কালীগঞ্জ উপজেলার কুশলিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম আজ শুক্রবার সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিনের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন।
তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই শাহীন। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘বৈধ কাগজপত্র না থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সবজির ট্রাক দুটি আটক করে থানায় আনা হয়। আজ শুক্রবার সকালে ট্রাকের মালিক কাগজপত্র দেখানোর পর থানার ওসি সাহেবের অনুমতিসাপেক্ষে ট্রাক দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
‘তবে ট্রাক ছাড়ার সময় কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি’, দাবি করেন এসআই শাহীন।
ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর থেকে বিভিন্ন ধরনের কাঁচা সবজি এনে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজারে পাইকারি বিক্রি করে থাকেন। তাঁর মালিকানাধীন দুটি ট্রাক মেহেরপুর থেকে বেগুন, কাঁচামরিচ ও পটোল নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে আসছিল।
ভোর ৩টার দিকে ট্রাক দুটি সাতক্ষীরা শহরের অদূরে লাবসা পলিটেকনিক মোড়ে পৌঁছালে এসআই শাহিন ট্রাক দুটি থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চান। ট্রাক দুটির চালক শহিদুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন সাজু তাঁদের কাগজপত্র দেখান। তখন ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক নেই জানিয়ে এসআই গাড়ি দুটি থানায় নিতে বলেন।
ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, গাড়ি থানায় নিতে রাজি না হওয়ায় এসআই গাড়িতে ফেনসিডিল ঢুকিয়ে দিয়ে সবাইকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। একপর্যায়ে দুই চালক বাধ্য হয়ে ট্রাক দুটি নিয়ে থানায় যান।
খবর পেয়ে মনিরুল আজ সকালে থানায় যান। তিনি বলেন, ‘এসআই শাহিন প্রথমে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে পুলিশ ক্লাবে বসে ৫০ হাজার টাকায় দফারফা হয়। সকাল ৯টার দিকে থানা থেকে সবজির ট্রাক ছাড়া হয়।’
ছয় ঘণ্টা ট্রাক আটকে থাকায় কালীগঞ্জ বাজার ধরা যায়নি, এ কারণে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ওই ব্যবসায়ী।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা