মানিকগঞ্জে ‘পাগলা’ মহিষের তাণ্ডব, আহত ৬
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় আজ সোমবার একটি মহিষ রশি ছিঁড়ে মানুষসহ যানবাহন ও ফসলের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে শিশু-নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়ে উথলীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন শিবালয়ের দশচিড়া গ্রামের পাষাণ শেখ (৬০), অঞ্জলী দে (৪৮), ক্ষুদ্র টেপড়া গ্রামের আলমাস উদ্দিন (৪০), ইমরান হোসেন (১০), কেশবপট্টি গ্রামের মনছুর হোসেন (৪০) ও ভাকলা গ্রামের আবদুল মান্নান (৩০)।
এদিকে, মহিষটি পাশের কামার ভাকলা গ্রামের চকে একটি ভুট্টাক্ষেতে অবস্থান করছে। প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও মহিষটিকে ধরার কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আশপাশের অন্তত পাঁচ গ্রামের লোক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ব্যক্তিরা জানান, শিবালয়ের টেপড়া বাজারের মাংস ব্যবসায়ী (কসাই) ও শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদ (৪০) পহেলা বৈশাখে জবাই করতে গতকাল রোববার রাতে ঢাকার গাবতলী থেকে মহিষটিকে কিনে আনেন। আজ সোমবার সকালে তিনি মহিষটিকে টেপড়া বাজার থেকে দশটিড়া নিয়ে যাওয়ার পথে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। ১০টার দিকে মহিষটি রশি ছিঁড়ে আশপাশের মানুষকে প্রথমে ধাওয়া করে। এরপর টেপড়া বাসস্ট্যান্ডে এসে মহিষটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও বাসের ওপর হামলা করে। সেখান থেকে মহিষটি চলে যাওয়ার পথে হামলা করলে পাষাণ, অঞ্জলী, আলমাস ও ইমরান আহত হন। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পাষাণকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এরপর মহিষটি কামার ভাকলা গ্রামের চকে আশ্রয় নেয়। সেখানে মহিষটি ধরতে গিয়ে মনছুর নামের একজন আহত হন। তাঁকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর ওই চকের ভেতর মান্নান (৩০) নামের আরো একজন মহিষের হামলায় আহত হলে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
স্থানীয় উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান মান্নান জানান, স্থানীয় লোকজন কাছে যেতে চাইলে মহিষটি তাদের ধাওয়া করছে। মহিষটিকে দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষ চকের দুই পাশে অবস্থান নেন। অনেকে দা ও লাঠি হাতে কাছে গেলে মহিষের ধাওয়ায় ফিরে আসেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম গালিভ খান ও শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন।
ইউএনও মহিষটিকে গুলি করে মারার পরিকল্পনা করলে ওসি তাতে রাজি হননি। ওসি ঘুমের ওষধ দিয়ে মহিষটিতে আটকাতে বলেন। উৎসুক লোকজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। এভাবে প্রশাসন ও পুলিশ সেখানে তিন ঘণ্টা পার করে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই চলে যায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, মহিষটিকে না ধরায় আশপাশের ভাকলা, কামার ভাকলা, দশচিড়া, ক্ষুদ্র টেপড়া ও বকচর গ্রামের হাজারো মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। চকের ভেতর থেকে যেকোনো সময় মহিষটি বসতবাড়িতে এসে হানা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিবালয় থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, বেশি মানুষ দেখে মহিষটি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহিষটি শান্ত হলে এর মালিক লোকজন নিয়ে সন্ধ্যার দিকে ধরতে পারবে বলেও জানান ওসি।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ