ওষুধ বিক্রির কোর্স করেই ডাক্তার!
তিন বছর আগে ওষুধ বিক্রির ওপর স্বল্পমেয়াদি একটি কোর্স করেছিলেন। এরপর নামের আগে ডা. শব্দ ব্যবহার করে শুরু করেন রোগী দেখা।
ভুয়া ওই চিকিৎসকের সন্ধান পেয়েছেন চট্টগ্রামের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বুধবার নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় মেরাজ ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। আদালত মেরাজ ফার্মেসির মালিক মোহাম্মদ ইসলামকে চিকিৎসক না হয়েও ডা. পদবি ব্যবহার করা ও রোগী দেখার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং তাঁর চেম্বার সিলগালা করে দেন।
একই আদালত নগরীর ছয়টি ফার্মেসিকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন।
পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাট এলাকায় ১৪টি ইটভাটাকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছেন পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত আজ কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার কামাল ফার্মেসির লাইসেন্স না থাকায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই কারণে একই এলাকায় প্রমি ড্রাগ হাউসকে পাঁচ হাজার টাকা, মোহাম্মদিয়া মেডিকেল হলকে ১০ হাজার টাকা, এস বি মদিনা ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা, হক ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা, আতুরার ডিপো এলাকার হক ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা ও জননী ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন জানান, ওষুধের ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল উদ্ধার, ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রিসহ নানা অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসককে দেওয়া নমুনা ওষুধসহ বিক্রির জন্য নয় এমন ওষুধ ও ভারতীয় ফুড স্যাম্পলের কয়েক লাখ টাকার ওষুধ জব্ধ করা হয়।
ভুয়া চিকিৎসক প্রসঙ্গে রুহুল আমিন বলেন, মেরাজ ফার্মেসির মালিক ইসলাম এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক নন। তিনি ওষুধ বিক্রির ওপর কয়েক মাসের একটি কোর্স করে নামের আগে ডা. শব্দ যুক্ত করে অবৈধভাবে রোগী দেখছিলেন। এ কারণে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও তাঁর ফার্মেসি-চেম্বার সিলগালা করা হয়েছে।
এদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট এলাকায় লাইসেন্স না থাকা এবং কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের দায়ে ১৪টি ইটভাটাকে চার লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় ১২ হাজার ঘনফুট জ্বালানি কাঠ উদ্ধার করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামিম আল ইয়ামীন এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।


আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম